আনুলিয়ায় লবণাক্ত জমিতে প্রথমবার বোরো আবাদ হচ্ছে, বাম্পার ফলনের আশা

IMG_20250207_192251
Share

আনুলিয়ায় লবণাক্ত জমিতে প্রথমবার বোরো আবাদ হচ্ছে, বাম্পার ফলনের আশা
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) ঃ আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে লবণাক্ত জমিতে প্রথমবারের মতো বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ফসলের দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে ধান উৎপাদন যথেষ্ট ভাল হবে।
আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবসিয়া গ্রামের চাষী শাহিনুর ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে বাগদা চিংড়ির ঘেরে ভাইরাসজনিত কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এলাকার অনেক মৎস্য চাষী এলাকা ছেড়েছে ও অন্য পেশায় ঝুকছে। আমরা কয়েকজন মিলে গরমের ধান করার প্রস্তুতি নিয়েছি। এবছর প্রায় তিন শতাধিক বিঘা জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ধান ভালো হয়েছে। ঠিক মত সার এবং পানি দিতে পারলে বিঘা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ মন ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
একই গ্রামের আসাফুর রহমান জানান, আমরা পরীক্ষামূলকভাবে আয়শ ধান ২৮, শক্তি-২, ব্লাক বড় মিনিকেট ও ৮৬ ধানের চাষ করেছি। ধানেরর অবস্থা অনেক ভালো।
কাকবসিয়া গ্রামের রুহুল কুদ্দুস, আব্দুল্লাহ গাজী, খায়ের গাজী জানান, মনিপুর ব্লকের কাকবাসিয়া, চেচুয়া, আনুলিয়ার একটি অংশ প্রায় ৩ শতাধিক বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এলাকার মানুষ যখন মাছ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিক সেই সময় বিকল্প হিসেবে ধান চাষ বেছে নিয়েছে। কিন্তু একটি মহল লবণ পানি তুলে ধানের ফসল ক্ষতি করার পায়তারা করছেন। এবছর ফসল ভালো হলে আগামীতে লোনা পানির মাছ চাষের পরিবর্তে অধিকাংশ জমিতে ধান চাষ করা হবে বলে তিনি জানান।
আশাশুনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শুভ্রাংশু শেখর দাশ  জানান, এ বছর উপজেলায় ৯৩৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে আনুলিয়া ইউনিয়নের ১০৩২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সার সরবরাহে কোন ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঠিকমতো পানি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে যেতে পারলে এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *