আশাশুনিতে বোরো চাষ ও মৎস্য ঘের প্রস্তুত পুরোদমে এগিয়ে চলেছে

WhatsApp Image 2024-11-18 at 8.52.55 PM
Share

আশাশুনিতে বোরো চাষ ও মৎস্য ঘের প্রস্তুত পুরোদমে এগিয়ে চলেছে
# প্রয়োজনের তুলনায় সারের বরাদ্দ কম হওয়ায় কৃ্ষকদের মনে সংশয়
জি এম মুজিবুর রহমান, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) ঃ আশাশুনি উপজেলার সকল ইউনিয়নে কৃষকরা বোরো আবাদ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমি প্রস্তুত ও রোপন কাজ নিয়ে দম ছাড়ার ফুসরত নেই কারো। একই সাথে চিংড়ী মাছ চাষীরা মৎস্য ঘের তৈরির কাজে বেশ জোরে শোরে সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলার খাল-বিল, ধান চাষের জমি ও মৎস্য ঘেরে দিনরাত কাজ করে চলেছেন শ্রমিকরা। তবে সবার মনে সারের চাহিদা পুরন নিয়ে সংশয় বিরাজ করছে।
আশাশুনি উপজেলায় এ মৌসুমে ৯ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ পর্যন্ত ১৭১০ হেক্টর হাইব্রিড ও ১৫৩০ হেক্টর উপশী মোট ৩ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ কাজ শেষ হয়েছে। শতকরা ৩৪.৬%। এক বছরে সারের চাহিদা ইউরিয়া ৩০৪৫ মে টন, টিএসপি ১০৫১ মে টন, ডিএপি ১৯৯৪ মে টন ও এমওপি ১২৮৩ মে টন। জানুয়ারী মাসের জন্য আশাশুনি উপজেলার ১১ ইউনিয়নে সার এসেছে ইউরিয়া ৪২৯ মে টন, টিএসপি ৩৩ মে টন, ডিএপি ৮১ মে টন ও এমওপি ৪৫ মে টন।
৯ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমি আবাদের জন্য জানুয়ারী মাসেই জমি তৈরি ও রোপন কাজ শেষ হবে। এসময় সারের প্রয়োজন খুবই বেশী ও জরুরী। জানুয়ারীতে যে পরিমান সার এসেছে তা ১১ ইউনিয়নে ভাগ করলে গড়ে ১১ মে টন করে ইউরিয়া, ৩ মে টন করে টিএসপি, ৭ মে টন করে ডিএপি ও ৪ মে টন করে এমওপি সার পেয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ৯টি করে ওয়ার্ড। ওয়ার্ড প্রতি ভাগ করলে যে পরিমাণ সার আসবে তা নিতান্ত খুবই নগন্য।
বুধহাটা ইউনিয়নের ডিলার শোভা এন্টার প্রাইজ জানুয়ারী মাসের জন্য টিএসপি ৬ টন বা ১২০ বস্তা, ডিএপি ১২ টন বা ২৪০ বস্তা ও এমওপি ০.৫ টন বা ১০ বস্তা বরাদ্দ পেয়েছে। ৯ ওয়ার্ডে ভাগ করলে ভাগে যতটুকু আসবে তা একটি ওয়ার্ডের জমির জন্য প্রয়োজনের তুলনায় হাস্যকর মনে হবে।
এছাড়া উপজেলায় ১৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে ঘের প্রসেসিং এর কাজ চলছে। ঘেরের জন্য ন্যুনতম বিঘা প্রতি ১০ কেজি টিএসপি, ১০ কেজি পটাশ, ১৫/২০ কেজি ইউরিয়া ও ১ কেজি করে দস্তা সার লাগবে। অথচ আশ্চার্যজনক হলেও সত্য যে, মৎস্য ঘেরের জন্য কোন সার বরাদ্দ নাই।
সবমিলে বোরো আবাদ ও মৎস্য ঘের প্রসেসিং এর জন্য সারের চাহিদা পুরনে ডিলাররা হিমশিম খেতে শুরু করেছে। ডিলাররা বোরো আবাদের চাষীদের চাহিদা মেটাতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে মৎস্য চাষীদের সারের চাহিদা পুরন করবে কি ভাবে?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সার ব্যবসায়ী জানান, বছরের ডিসেম্বর, জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে সারের চাহিদা অনেক বেশী হয়ে থাকে। উপজেলায় যে পরিমাণ সারের বরাদ্দ থাকে তাতে সংকুলান সম্ভব হয়না। এজন্য যে সব জেলায় সার অতিরিক্ত থাকে সেখান থেকে ক্রয় করে এনে আমরা চাহিদা পুরনে চেষ্টা করি। কিন্তু সমস্যা হলো বাইরে থেকে সার কিনে আনতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্য একটু বেশী অর্থাৎ কেজিতে ১/২ টাকা বেশী দরে বিক্রয় করতে হয়। সে সুযোগ না দেওয়া হলে সার সংকট থেকেই যাবে।
সচেতন চাষীরা জানান, আমরা সারের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় প্রতি বছর সমস্যায় পড়ি। এজন্য ডিসেম্বর, জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে সারের বরাদ্দ বাড়ান দরকার। সাথে সাথে আশাশুনির ১৭১০ হেক্টর মৎস্য ঘেরের জন্য সার বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এস এম এনামুল ইসলাম জানান, প্রতি মাসে সারের বরাদ্দ থাকে। তখন ঐ পরিমাণ সারের প্রয়োজন না থাকায় সার মওজুদ থেকে যায়। মওজুদ থাকা সার এখন ছাড়া হয়ে থাকে। তবে মৎস্য ঘেরের জন্য সারের বরাদ্দ না থাকায় এসময় তাদের চাহিদা পুরন করা সম্ভব হয়না। আমরা ১৫/২০ দিন পরে ঘের প্রসেসিং করতে পরামর্শ দিয়েছি। তখন চাহিদা মেটান স্বাভাবিক হবে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *