কৃষকের মুখে হাসি কমলার ফলনে

Untitled-675864f014ab6
Share

চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে কমলার বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা বাজারে কমলা বিক্রি শুরু করেছেন। এ বছর মৌসুমে ৩১৫টি কমলা বাগান থেকে আনুমানিক ২৩ কোটি টাকা বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা চাষিদের। সরেজমিনে জেলার জুড়ী উপজেলার ৮ নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লালছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উঁচু-নিচু পাহাড়ে অবস্থিত বাগানগুলোতে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা রসালো কমলা। চাষিরা গাছ থেকে পাকা কমলা নামাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পাইকারি ক্রেতারা ভিড় করছেন বাগানগুলোতে। প্রতিদিনই পাইকারি ক্রেতারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। 

মৌলভীবাজারের সাত উপজেলায় কমলা চাষ হলেও বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হয় জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায়। এই জেলার বড়লেখা ও জুড়ীর পাহাড়ি অঞ্চলে কমলা চাষের ঐতিহ্য প্রায় ৩০০ বছরের। জেলায় বিভিন্ন জাতের কমলা চাষের মধ্যে অত্যন্ত রসালো ‘নাগাপুরি’ ও ‘খাসিয়া’।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় মোট কমলার বাগান রয়েছে ৩১৫টি। এসব বাগানের ১৭০ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ করছেন চাষিরা। এ বছর প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭ টন। সে হিসেবে ১৭০ হেক্টর জমিতে মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ১৯০ টন। এ লক্ষ্যমাত্রা এবার পুরোপুরি অর্জিত হয়েছে। এবার ১ হাজার ১৯০ টন কমলা বিক্রি হবে আনুমানিক ২৩ কোটি টাকা। কমলার রাজধানীখ্যাত জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার ১২৪ হেক্টর জমিতে ৮৬৮ টন কমলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল; যা অর্জিত হয়েছে। এতে বিক্রি হবে আনুমানিক ১৭ কোটি টাকা। জেলার বাকি ৫ উপজেলায় ৪৬ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩২২ টন।

জুড়ী উপজেলার ৮ নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লালছড়া পাহাড়ি গ্রামের কমলা চাষি মো. মোর্শেদ মিয়া বলেন, ‘আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে কমলা চাষে জড়িত। আমার বাগানে দেড় সহস্রাধিক কমলাগাছ ছিল। চলতি মৌসুমে গাছে গাছে ফল আসার পর প্রায় ৩০০ গাছে অজ্ঞাত রোগ দেখা দেয়। এর পরও এবার আশাতীত ফলন পেয়েছি। বিক্রি করা শুরু করেছি। আশা করছি ভালোই লাভবান হব।’

কমলা চাষি ফজর আলী বলেন, ‘মৌসুমে যখন কমলা গাছগুলো ফলে ফলে পরিপূর্ণ হয়, তখন আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠি। গাছে কমলা ধরা মানে টাকা ধরা, একটা কমলা মানে আকারভেদে ১০ টাকা থেকে ২৫ টাকা। অর্থাৎ গাছ থেকে কমলা সংগ্রহ করলেই টাকা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরও এবার আমাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে প্রকৃতি আমাদের অনেক বেশি দিয়েছে। এবার কমলার ফলনে আমরা প্রান্তিক চাষিরা লাভবান।’

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ বছর জেলার কমলার বাগানগুলোতে প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে ৭ টন। কমলা চাষ সম্প্রসারণে এ অঞ্চলে নতুন একটি প্রকল্প দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ জেলায় কমলা উৎপাদন আরও বাড়বে। জেলার কমলা বাগানগুলো থেকে পুরোনো গাছ সরিয়ে গ্রাফটিং চারাগাছ রোপণ করা হলে কমলা বাগানে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে।


Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *